দীঘিনালায় বিমলের পরিবারের কষ্টের গাথা, মেধাবী তিন ছাত্র বিপাকে

Desk Reporter
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:০৪ PM, ২৩ জুন ২০২০

সুপন চাকমা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালাতে পুকুরঘাট এলাকায় ছোট কুড়ে ঘরে বাস বিমল চাকমার(৪৫)। তার স্ত্রী ও তিন মেধাবী ছেলের সংসার। নিজের জমিজমা বলতে কিছুই নাই।  অন্যের কাজ করে যা পায় তা নিয়ে চলে দিনকাল।
তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তুক্কুরো চাকমা(১৫) সবে এস এস সি পাশ করেছে।  করোনায় স্থবির হয়ে আছে ভর্তি প্রক্রিয়া। যদি ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় তার ভর্তি বাদ যাবে।
মেজো ছেলে  ভুক্কুরো চাকমা (১১)।  ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র আমার (প্রতিবেদকের) কাছে বিনা খরচে পড়ে। সে গত বছর জি পি এ ৫ পেত আমি নিশ্চিত।  কিন্তু গরীবের ধারে কেবা ধরনা দেবে?   কারো সহযোগিতা ছাড়া ৪.৮৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আমি তাকে ডেকে ডেকে পড়ায়।  করোনার সময়ে আমার বাড়িতে থাকত। চাল কিংবা বাজার খরচ দিতে পারেনা।
একবার বলেছিলাম বাড়ি গিয়ে দেখ তোমার মা বাবা চাল দিতে পারবে কিনা?  এরুপ বলাতে সে হয়তো লজ্জা পেয়েছে। বাড়ি গিয়ে আর আসে না।  এতো বলার পরেও আসেনা।  পরে বলেছি অবস্থা বুজে বই নিয়ে পড়তে এসো।  কিন্তু কয়েকদিন এল আর আসে না। আবার খবর নিলাম কি সমস্যা?  দেখা গেল, পরনের একটি পেন্ট। সেটা ছিড়ে গেছে। হায়রে হতভাগা!  যার দুক জনম সুত্তো দুক (চাকমা হদা)।
 আমি কোন বিপদে পরলাম। তাকে একটু দেখব পেন্টের ব্যবস্থা করতে পারি কিনা।  কিন্তু ছেলে মানুষ হঠাৎ জ্বর উঠেছে তার মা -বাবাকে জিজ্ঞেস করে জানলাম।  হয়তো এরুপ যারা কষ্ট করে লেখা পড়েছেন তারাই মূল্যতা বুজবে অন্যরা বুজবে না।
তিন নাম্বার ছেলে ফলন্ত চাকমা (৮)। ৩য় শ্রেণির ছাত্র সেও মেধাবী। বানছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। শিক্ষকদের তথ্য মতে বিমলের ছেলেগুলো সবাই মেধাবী। সবাই বাড়ির পাশে বানছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে এবং করছে।
বিমলের বড় ছেলেকে তুক্কুরোকে পড়েয়েছিলেন শিক্ষক অরুন শান্তি চাকমা। তার ভাষ্যমতে বিমল তাকে ছেলের খরচ দিতে পারেনি। সে অনেক মেধাবী বলে জানান তিনি।
আমি সন্ধ্যার সময় গেলাম বিমলের বাড়ি।  কিছুক্ষণ কথা বলি।  এখন কাজ কী করে জানতে চাইলাম।  সে বলল তার করুণ কাহিনি। খাগড়াছড়ি  মাটিরাঙায় এক মিষ্ট্রির সাথে কাজে গেছে।  যাবার পর করোনা শুরু।  পকেট খরচ ছাড়া  কিছু পাননি। এখন কোন কাজ নাই। তিন ছেলের ভবিষ্যৎ কী হবে তিনি জানেন না।
বিমলের স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে।  লাকড়ি বিক্রি করে।  সেই লাকড়ি ও এখন পাওয়া যায় না বলে জানান বিমলের স্ত্রী।  নিজেরা খাবে কি? ছেলেদের দিবে কী? কথা বলতে বলতে কেদে ফেলেন বিমলের স্ত্রী।
করোনাকালে ত্রাণ পেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলাম।  সরকারের দেয়া দুইবার ১০(দশ) কেজি করে চাল পেয়েছে।  দেখেন ২০ কেজি চালে বেচে আছে তাদের ৫ জনের সংসার।
আমি (প্রতিবেদক) তাদের কাহিনি লিখতে গিয়ে কেদে ফেললাম।  সুন্দরভাবে সাজাতে পারলাম না।  আমি ত্রাণের কথা বলব না।  বিমলের ছেলেদের কেউ উপকার করতে চাইলে কল দিবেন ০১৮৮৪২৭৮৭৭২(আমার)।  বিমলের  নাম্বার ০১৫৮৫৭০৪৫৪৭/

আপনার মতামত লিখুন :