দুরারোগ্য ব্যধি থেকে পুরো সুস্থ বিনা চাকমা

Desk Reporter
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪৬ AM, ১৫ জুলাই ২০২০

সুপন চাকমা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বাঘাইছড়ি সাজেক গঙ্গারাম দুয়ার এলাকার বাসিন্দা বিনা চাকমা (৩৭)। প্রায় ১০ বছর অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত। শরীর চিকোন এবং পেট বেড়েই যাচ্ছিল। অনেক গ্রাম্য ডাক্তার আর কবিরাজের চিকিৎসা করেও কোন লাভ হয়নি। বরং টাকা পয়সা সব নিঃস্ব হয়েছে।

মৃত্যু নিশ্চিত জেনে নিকুঞ্জ বিহারি দাদা ফেইসবুকে সাহায্য চেয়ে পোস্ট দিলে বিষয় প্রতিবেদকের নজরে আসে। কথা হয় ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে। প্রিয় ব্লক ৭১ ডটকম এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং মহান ব্যক্তিরা বিনা চাকমা সহায়তায় এগিয়ে আসেন।

এক বার্তায় নিকুঞ্জ বিহারি চাকমা বলেন – সম্প্রতি বিনা চাকমার দুরারোগ্য ব্যাধি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। যার জন্য আমরা এতদুর পর্যন্ত এগুতে পেরেছি। খুশির খবর, রোগী এখন সম্পুর্ণ সুস্হ, স্বাভাবিক এবং আপদমুক্ত।

তিনি আরো বলেন – বিভিন্নভাবে যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা অসীম ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ বিশেষ ভাবে যারা এগিয়ে এসেছেন, তারা হলেন- খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বাবু টিকো চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক (ছাত্রনেতা) বীর পুত্র উসিং হাই রবিন বাহাদুর, বাঘাইছড়ি উপজেলার মাননীয় চেয়ারম্যান বাবু সুদর্শন চাকমা, মেডিকেল বোর্ড এর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ডাঃ জয়া চাকমা (কনসালটেন্ট গাইনী), ডাঃ পূর্ণজীবন চাকমা (আরএমও ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ), ডাঃ টুটুল চাকমা (এমওসিএস ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ), ডাঃসুবল জ্যোতি চাকমা (অর্থো-সার্জারি বিশেষজ্ঞ), ডাঃ দিগন্ত চাকমা (সার্জন), ডাঃ আবিদা (মেডিকেল অফিসার) ডাঃ রওশন আরা বেগমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সকলেই।
এছাড়াও বিনার চিকিৎসার্থে পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকাস্হ CHT COVID 19 Emergency Aid Committee (CCEAC)। সম্পৃক্ত সকলকেই আমাদের অন্তস্হল থেকে গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা।

উল্লেখ থাকে, রোগঃ রোগীর পেটে এক বৃহৎ ডিম্বাশয়ের টিউমার (Ovarian Tumour) হয়। দীর্ঘদিন এই টিউমারের সাথে যুদ্ধ করতে করতে উনি চরম অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। রক্তশূন্যতা ও ছিল।

ভর্তির পর থেকে রোগীকে কী কী করা হয়েছেঃ প্রথমেই রোগীকে স্বাস্থ্যবিভাগ রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি CT Scan করে রোগ সঠিক নির্ণয় করা হয়েছে। রক্ত স্বল্পতার জন্য কয়েক ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে ।

২০/০৬/২০২০ তারিখ মেডিকেল বোর্ড এর বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগীর অবস্থা পর্যালোচনার জন্য রোগীর কাছে যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ জয়া চাকমা( কনসালটেন্ট গাইনী), ডাঃ পূর্ণজীবন চাকমা(আরএমও ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ), ডাঃ টুটুল চাকমা( এমওসিএস ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ), ডাঃ সুবল জ্যোতি চাকমা (অর্থো-সার্জারি বিশেষজ্ঞ), ডাঃ দিগন্ত চাকমা(সার্জন), ডাঃ আবিদা (মেডিকেল অফিসার) সহ স্বাস্থ্য বিভাগের অনেকেই। রোগির পেট থেকে স্যালাইনের মাধ্যমে প্রায় ২ লিটার তরল জাতীয় পদার্থ বের করা হয়।

দৈনিক রোগীর পেট থেকে দেড়/দুই লিটার জমে থাকা তরল জাতীয় পদার্থ বের করা হয়। সাথে ধীরে ধীরে রোগীকে অপারেশনের জন্য উপযোগী করে তুলা হয়। । এরপর সদর হাসপাতালেই রোগীর অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে রোগীকে অপারেশনের উপযোগী করে ৩/৪ সপ্তাহ পর সব কিছু যাচাই পূর্বক অপারেশন করে এখন পুরো সুষ্ঠু বিনা চাকমা।

আপনার মতামত লিখুন :